বধিরতায় ভুগছেন ৯ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের প্রায় ৯ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ বধিরতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বলেন, ষাটোর্ধ্ব ৩৫ ভাগ মানুষ শ্রবণ শক্তিহীনতায় ভুগছেন।
আজ বুধবার (৩ মার্চ) সকালে ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান তিনি।
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল বলেন, দেশে বধিরতার মাত্রা সঠিকভাবে নিরূপণের জন্য পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। শব্দজনিত বধিরতা কমানো ও এর প্রতিরোধে শহরের শব্দদূষণ কমানো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শ্রবণশক্তি হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা শব্দদূষণকে দায়ী করছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রবণহীনতার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো, খাদ্যজনিত অপুষ্টি, গর্ভবতী মায়ের অপ্রয়োজনীয় ও অসঙ্গত ওষুধ খাওয়া, এনআইসিইউতে শিশুর জীবন রক্ষায় শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ানো ও মাত্রাতিরিক্ত অক্সিজেন প্রয়োগ, লাউডস্পিকার ও সাউন্ড বক্সে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণ।’
তিনি আরও বলেন, কর্ণ ও শ্রবণ সেবাকে স্বাস্থ্য সেবার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি নবজাতক শিশুর বধিরতা আছে কি না তার পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করাও জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ‘হিয়ারিং লস বা শ্রবণশক্তি লোপ পেয়েছে এমন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই আমাদের সমাজে বিভিন্ন কলঙ্কজনিত অপবাদসহ তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় এবং তাদেরকে আলাদা করে দেখা হয়। হিয়ারিং লসের চিকিৎসা না করালে আন্তঃসম্পর্কীয় এবং পারিবারিক বন্ধনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রবণশক্তি অপর্যাপ্ত হলে শিশুরা ঠিকভাবে কথা বলতে শিখতে পারে না। ফলে তাদের সামাজিক অবস্থান দুর্বল হয়ে যায়।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু হানিফ। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা প্রমুখ।